আন্তর্জাতিকপাঠকের লেখা

ক্রিকেট ইজ ব্যাক

0

স্কয়ার লেগে জেন্টলি গাইড করে দিয়ে ছুটলেন ক্যাম্পবেল, অপর প্রান্ত থেকে তার ছেড়ে যাওয়া অরবিটালের কক্ষপথে ইলেকট্রন হয়ে ছুটলেন জেসন হোল্ডার। একটা সিংগেল।
ক্রিকেট মাঠের সবচেয়ে কমন দৃশ্য এটা। একটা সিংগেল। মামুলি একটা সিংগেলই তো।

স্বভাবতই এই সিংগেলকে বর্ণনা করতে স্তুতিগাথা, বিশেষণের ঠাসা বুনটে লাইন লিখতে হয় না। জুড়তে হয় না উপমা।
কিন্তু এই সিংগেলটা ক্রিকেট ইতিহাসের খুব শুরুত্বপূর্ণ, অর্থবহ, ওজনদার একটা রানের প্রতীক।

করোনার একেকটা গতিময় বাউন্সার, টো ক্রাশার ইয়র্কারে দুনিয়ার ইনিংস টালমাটাল। অদৃশ্য শক্তির সেই বিধ্বংসী বোলিং স্পেল খানিকটা থামিয়ে দিল ইংল্যান্ড আর উইন্ডিজ। সেই করাল থাবায় খানিকটা শান্তির আবহ জুড়ে দিল ক্যাম্পবেল-হোল্ডারের সিংগেলটা।

গত অ্যাশেজের হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডকে একাই জেতান স্টোকস। তার সাথী ছিলেন লিচ। একদম গোড়ার দিকে ব্যাট করেন চশমা পরা ভদ্রলোক। ১৭ বল খেলে ১* রান করেছিলেন। সেই এক রানই ম্যাচ জেতাতে এক্স ফ্যাক্টর ছিল। ফাইন লেগে গাইড করে পড়িমরি ছুটেছিলেন অপর প্রান্তে, উইনিং হিরো স্টোকসকে তার প্রাপ্য মঞ্চটা বুঝিয়ে দিতে।

ক্রিকবাজ লিখেছিল, ‘ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ টেক্সট বইয়ে লিচের নাম সিলগালা হয়ে গেল।’

ইংল্যান্ডের টেক্সট বইয়ে লিচের নামে কোনো চ্যাপ্টার ভবিষ্যতে ইংলিশ খোকাখুকিরা পড়বে কিনা জানি না। তবে যখন ক্রিকেট নিয়ে একটু পড়াশোনা করবে, তখন জেনে যাবে আলাদা করে, এক অদৃশ্য ভয়াল ভাইরাসের কারণে থমকে থাকা মানবজীবন, খেলোয়াড়দের থেমে থাকা বোলিং স্পেল আর ইনিংসগুলো সচল হয়েছিল ইংল্যান্ড আর উইন্ডিজের হাত ধরে।

ইতিহাস ঘেটে আমরা পড়েছি, ক্রিকেটের পোস্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ার সিচুয়েশন। ভবিষ্যত পড়বে, পোস্ট করোনা সিচুয়েশন। যার শুরুটা হয়েছিল, শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের দারুণ গতির একটা ইনসুইং ডেলিভারিতে, ডম সিবলি বোল্ড হবার পর। যার শেষটা রাঙিয়েছেন হোল্ডার-ক্যাম্পবেল মিলে।

তখন জয় থেকে ২০ রান দূরে উইন্ডিজ৷ নিজের ওভার শেষ করে, জিমির হাতে বল তুলে দিয়ে মাথা নাড়ছিলেন ক্যাপ্টেন স্টোকস। ‘হয়নি, হলো না’ টাইপ চিন্তা চেহারা জুড়ে। জমে উঠেছিল দুই অধিনায়কের লড়াইও। ম্যাচের হাসি হোল্ডারেরই। পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে বলেছেন জয় নিয়ে তৃপ্তির কথা। বলেছেন সহযোদ্ধাদের কথা। সাগরপাড়ের এই আমুদে মানুষগুলোকে ক্রিকেট মাঠে দেখতে ভালো লাগে।

ম্যাচটা হেরেছে ইংল্যান্ড। সংখ্যার খাতায় লেখা থাকবে লুজিং ক্যাপ্টেন স্টোকস। তবে, হারলেও পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে কথা শুরু করেছেন ক্রিকেট ফেরার স্বস্তি দিয়েই। জানিয়েছেন ইংলিশ ক্যাপ্টেন হবার তৃপ্তি, প্রাপ্তিটাও।
পরের টেস্টেই ফিরছেন জো রুট। এখনই যেন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন তাকে, ‘দিস ইজ জো’স টিম’

দুনিয়া গোল নাকি ফ্ল্যাট সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। খোদ ফ্লিনটফ বিশ্বাস করেন দুনিয়া ফ্ল্যাট। তবে ফ্ল্যাট কিংবা রাউন্ড আর্থের ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে এই ম্যাচ। লেখা হয়ে গেছে আলাদা একটা চ্যাপ্টার।

পোস্ট করোনা সিচুয়েশনে ক্রিকেট ফিরেছিল সাউদাম্পটনে।টেস্টের হাত ধরে, বনেদি সেই ক্রিকেট ফরম্যাটের হাত ধরে। দর্শকশূণ্য রোজেস বোলের স্কয়ার লেগে, স্কয়ার লেগের ঘাসে মিশে থাকবে আজীবন।

ইংলিশ সামার, ডিউক বল, সাদা জার্সি, আর টেস্ট ক্রিকেট। ক্রিকেট। ক্রিকেট ইজ ব্যাক।

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *