বাংলাদেশ

তামিমের জন্য বড় ভাই নাফিসের আত্মত্যাগের গল্প

0

দেশসেরা ব্যাটসম্যান কিংবা বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালকে আজ সবাই চেনে, অথচ নাফিস ইকবালকে মনে রেখেছেন কয়জন? তামিমের মতো কিংবা তামিমের চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি নিয়েই দেশের ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন নাফিস, পারেননি সেসব পূরণ করতে।

তবে আজকের তামিমের গড়ে ওঠার পেছনে অনেক সবচেয়ে বেশি অবদান বড় ভাই নাফিস ইকবালের। ছোট বয়সেই বাবাকে হারানোর পর থেকে তামিমকে আগলে রাখেন তার বড়ভাই নাফিস ইকবাল। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনেও ভেবেছেন ছোট ভাই তামিমের কথাই।

নিজে খেয়ে না খেয়ে টাকা জমাতেন, ছোট ভাই তামিম যেন আরেকটু বেশি সুবিধা পায়, আরেকটু ভালো ব্যাট দিয়ে খেলতে পারেন। নাফিসের এসব আত্মত্যাগের অজানা গল্প জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

সোমবার রাতে তামিমের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসে মাশরাফি মনে করিয়ে দেন, তামিমের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে নাফিসের অবদান বেশি। প্রসঙ্গটা এনেছিলেন মূলত তামিম নিজেই। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আমাকে প্রথম দেখার কথা মনে আছে আপনার?’

উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘তোকে প্রথম দেখার ঘটনাটা বলি। আমি আর নাফিস তো বন্ধু। আমরা চট্টগ্রামে টেস্ট খেলতে গিয়েছিলাম। তো তখন তোর বাসায় গিয়ে দেখি তুই হাফপ্যান্ট পরা। কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গাড়ি নিয়ে খেলছিস। তোরে জিজ্ঞেস করলাম, ভাইয়া ভাল আছ? সেইটা বলতেও তুই লজ্জা পাচ্ছিলি। সেই তামিম আজকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।’

এতটুকুতেই উত্তর শেষ না করে তিনি বলতে থাকেন, ‘আমি একটা জিনিস বলি তোর এই পর্যন্ত আসার পেছনে তোর বড় ভাইয়ের (নাফিস ইকবাল) অবদান সবচেয়ে বেশি। তোর ভাই তোদের জন্য যে ত্যাগগুলো করেছে তা অবিশ্বাস্য। তোর বাবা অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন, মারা গেলেন। তোর মা তোর বোনকে নিয়ে সংসার সামলেছেন। তোর চাচারা ছিল কিন্তু যে যাই বলুক আমি বলব, তোর বড় ভাইয়ের অবদান অনেক বেশি।’

মাশরাফির কথার ফাঁকে তামিম বলেন, ‘হ্যাঁ! ভাইয়ার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। আপনি তো আমাকে আগেও বলেছেন, ভাইয়া যে না খেয়ে টাকা জমাতেন।’

খানিক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মাশরাফি। বলতে থাকেন, ‘তোর ভাই যা করছে তুই জানিস না। আমরা জানি, আমরা তার সাথে চলছি। ওয়ান পেন্সের (বাংলাদেশি মুদ্রায় পয়সার সমমান) বার্গার খাইতোরে ভাই, ওয়ান পেন্স বার্গার। আমি ওরে একদিন বলছিলাম যে তুই যদি শরীরেই না দিস, তুই বাঁচবি কিভাবে আর খেলবি কিভাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমি বুঝি যে ও তো তোর জন্যই সব করত। তুই যেন একটা ভালো ব্যাট দিয়ে খেলতে পারিস বা ভালো কিছু করতে পারিস। আমি ওকেও বলছি, তোকেও বলছি ওর কিন্তু বাংলাদেশের অন্যতম সেরা টেস্ট খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ ছিল। আমি এখনও বলি, হতে পারেনি। তবে ওর সব তুই পাইছিস। এই আরকি।’

এমকে/

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *