জন্টি রোডস। ছবিঃ গেটি ইমেজেস
আন্তর্জাতিকফিচার

‘দ্য ম্যান হু ক্যুড ফ্লাই’

0

স্যাম শুভঃ ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান কে?  কেউ বলবেন ডন  ব্র্যাডম্যানের নাম। কেউ বলবেন শচিন টেন্ডুলকারের নাম। কারো ভোটটা যাবে ব্রায়ান লারার ব্যালটে। আসবে আরো অনেক দারুণ ব্যাটসম্যানের নাম। তেমনি সেরা বোলারের তকমা নিয়েও তর্ক-বিতর্ক হবে ওয়াসিম আকরাম, ম্যালকম মার্শাল, শেন ওয়ার্ন, মুরালিধরণসহ আরো অনেক কিংবদন্তি বোলারের ভক্তদের মধ্যে।

কিন্তু সর্বকালের সেরা ফিল্ডার কে? এই প্রশ্নের বেশিরভাগ উত্তরেই আসবে জন্টি রোডসের নাম। তথা জোনাথন নিল জন্টি রোডস।

ব্যাটিং-বোলিংয়ের মতো ফিল্ডিং ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ ফিল্ডিং। ম্যাচের ফলাফলে ব্যাট-বলের পাশাপাশি ফিল্ডিংও হয়ে ওঠে এক্স ফ্যাক্টর। আপনি একজন ভালো মানের ব্যাটসম্যান হতে পারেন কিংবা ভালো মানের একজন বোলার হতে পারেন । কিন্তু ম্যাচে দলকে জয়ী করতে হলে অবশ্যই আপনাকে একজন দুর্দান্তমানের ফিল্ডার হতেই হবে।

ঠিক তেমনই একজন ছিলেন জন্টি। তার নাম শুনলেই কল্পনার চোখে ভেসে উঠে কভার কিংবা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে বাজপাখির মত ক্ষিপ্রতা সম্পন একজন দাঁড়ানো, যার আশপাশ দিয়ে ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসা শটের বলটি পালিয়ে যাবার কোন সুযোগই নেই , শিকারির মত ঝাপিয়ে পড়ে বলটি ধরে ফেলবেনই ।

কেবল ফিল্ডিং দিয়েই দলে জায়গা ধরে রেখেছেন এমন কয়জন ক্রিকেটার ছিলেন বা আছেন? সেই ছোট্ট, দুর্লভ তালিকায় আছেন জন্টি রোডস। দারুণ ফিল্ডিং দিয়েই দীর্ঘ দিন দলে জায়গা ধরে  রেখেছিলেন। ১৯৯২ সালে অভিষেকের পর, সেই বছর ১৮ ম্যাচে ২৩.৭৯ গড়ে মাত্র ৩৩৩ রান করেন ও পরের বছর ১৬ ম্যাচে ৩৩.৩০ গড়ে ৩৬৩ রান করেন। ৩৪ ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি মাত্র একটি, কোন সেঞ্চুরি নেই । সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৫৬ রানের।

ক্যাচ নিয়েছিলেন ১৭টি! এতেই বোঝা যায়, ম্যাচগুলোতে ফিল্ডিংয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন  প্রায় প্রতি ম্যাচেই দুর্দান্ত ফিল্ডিং দিয়ে প্রচুর রান বাঁচিয়ে দিতেন।

ভারতীয় লেখক ভৈবভ শর্মা রচিত ‘The Tendulkar Era ‘ বইয়ে একটি অধ্যায় আছে জন্টিকে নিয়ে। সেই অধ্যায়ের নাম  ‘দ্য ম্যান হু কুড ফ্লাই’

সেই অধ্যায়ের নামকরণের সার্থকতা জন্টি প্রমাণ করেছেন তার ক্যারিয়ার জুড়ে। ছিলেন বাজপাখির মতো দ্রুত, ছিল চিতার ক্ষিপ্রতা। ছিল দারুণ রিফ্লেক্স। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে, ইনজামাম-উল-হককে করা রান আউটের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই?  নন স্ট্রাইকিং এন্ড থেকে ইনজামাম স্ট্রাইকিং এন্ডে পৌঁছানোর আগেই, পয়েন্ট থেকে ছুটে গিয়ে, প্রায় ক্রিজের কাছাকাছি থেকে বল কুড়িয়ে উইকেট ভেঙ্গে দিয়েছিলেন উড়ে গিয়েই!

১৯৯২ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের জন্যে টুর্নামেন্টের সেরা ফিল্ডার হিসেবে সম্মানিত করা হয় । রানআউটের ক্ষেত্রেও রোডস খুবই দক্ষ ছিলেন । এমনো হত যে তার আশেপাশে বল থাকলে ব্যাটসম্যানরা রান নিতে ভয় পেত এবং অপারগতা প্রকাশ করতো ।

ব্যাটসম্যান জন্টি রোডসও কিন্তু পিছিয়ে ছিলেন না । তার মাধ্যমেই রিভার্স সুইপ শটটি সবচেয়ে বেশি প্রচার পায় । রোডসের ইনিংসগুলো খুব একটা বড় হতো না , কিন্তু তার প্রতিটি ইনিংসেই চোখধাঁধানো ও দৃষ্টিনন্দন শটের ছড়াছড়ি থাকতো ।

১৯৬৯ সালে এই দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার পিটারমারিৎবার্গে জন্মগ্রহণ করেন এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় । রোডস তার ক্যারিয়ারে ৫২ টেস্টে ৩৫.৬৬ গড়ে ২৫৩২ রান , সর্বোচ্চ ১১৭ রান এবং ২৪৫ ওয়ানডেতে ৩৫.১১ গড়ে ৫৯৩৫ রান , সর্বোচ্চ ১২১ রান করেন। ১৯৯৯ সালে তাকে উইজডেনের অন্যতম বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

জেটি

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *