আন্তর্জাতিকফিচার

ধোনির ত্রিমুকুট, ইতিহাসে একমাত্র

0

সিফাত হাছান সুমাইয়াঃ  ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা অধিনায়ক কে? বেশিরভাগ ভোটই পড়বে মহেন্দ্র সিং ধোনির নামে। বেড়ে উঠেছেন ঝাড়খন্ড অঞ্চলের রাঁচি শহরে। ক্রিকেটের হাতেখড়িও সেখানের স্কুল জীবনে। হতে চেয়েছিলেন ফুটবলের গোলরক্ষক। ক্রীড়া শিক্ষকের নজরে পড়ে হয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। পেরিয়েছেন বয়সভিত্তিক দলের একেকটা ধাপ, খেলেছেন রঞ্জিতে। পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। সময়ের পালাবদলে কাঁধে ওঠেছে অধিনায়কের দায়িত্ব। সেখানে করেছেন বাজিমাৎ। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক ট্যাগটাও তার গায়েই লেগেছে। পরিসংখ্যান, ট্রফির সংখ্যাও তার পক্ষেই কথা বলে।

অধিনায়ক ধোনির নেতৃত্বে ভারত ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ, ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালে ঘরে তুলেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। টেস্ট র‍্যাংকিংয়েও দলকে নিয়ে গেছেন শীর্ষে। এত সব অর্জন আর কোন অধিনায়কের ঝুলিতে নেই, ধোনি ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে।

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ফাইনালে পাকিস্তানকে হারানোর পর ধোনির উল্লাস। ছবিঃ সংগৃহীত

 

২০০৭ সাল, ওয়ানডে-টেস্ট, দুই ফরম্যাটেই অধিনায়কের দায়িত্ব পান ধোনি। সেবারই  দক্ষিণ আফ্রিকায় বসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর। ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্র সংস্করণের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। এক তরুন দল নিয়ে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ধোনি। দিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা।

প্রথম টি-২০ ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম বারের মত চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল ভারত। শেষ মুহূর্তে যোগীন্দর শর্মাকে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন মিজবাহ উল হক, এর এতেই শিরোপা উঠেছিল ভারতের হাতে, অধিনায়ক হিসেবে ধোনির প্রথম অর্জন, যা এখন পর্যন্ত টি-২০ তে ভারতের সেরা সাফল্য।

ফাইনাল ওভারে জিততে হলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। ধোনি বল তুলে দিয়েছিলেন জোগিন্দর শর্মার হাতে। স্ট্রাইকে ছিলেন সেট ব্যাটসম্যান মিসবাহ-উল-হক। জোগিন্দরের করা বলে স্কুপ করে মিসবাহ। ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক হয়নি। তাই কাল হলো পাকিস্তানের জন্য। ফাইন লেগে ধরা পড়েন শ্রীশান্তের হাতে। শিরোপা নিশ্চিত হয় ভারতের।

২০০৭ সালের পরে ভারত আর কোন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেনি।  সেই স্বাদ শুধু একবারই পেয়েছে ভারত।  সেই ঝাকড়া চুলের অধিনায়ক ধোনির হাত ধরে।

২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ

ছক্কা মেরে বিশ্বকাপ জয়, বিমর্ষ সাংগাকারা, যুবরাজের আলিঙ্গনে আটকা জয়ের নায়ক ধোনি। ছবিঃ সংগৃহীত

ভারত প্রথম বিশ্বকাপ জিতে ১৯৮৩ সালে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেবারের আসর। এরপর টানা ২৮ বছর ভারত আর কোন শিরোপার দেখা পায়নি। সেই আক্ষেপ দূর হয়েছে ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে।শ্রীলংকাকে ফাইনালে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে ভারত। ব্যাট হাতে দারুণ এক ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা এনে দেন অধিনায়ক ধোনি।

২রা এপ্রিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাহেলা জয়াবর্ধনের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ভারতের সামনে ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাড় করায় তারা। জবাবে, শুরুতেই ভারতীয়রা শচীন টেন্ডুলকারকে হারালেও, গৌতম গম্ভীর-ধোনির ব্যাটে চড়ে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়েই ইতিহাস সৃষ্টি করে ভারত। জিতে নেয় নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।  ধোনীর অধিনায়ক ক্যারিয়ারে যোগ হয় আরো একটি অর্জন। বলা যায় সব থেকে বড় অর্জন।

২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি

ইংলিশ দম্ভ চূর্ন করে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়। স্যুভেনির সংগ্রহ করতে ব্যস্ত ধোনি-রোহিতরা। ছবিঃ সংগৃহীত

সেদিন বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ধোনি অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বারের মত চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফিতে শিরোপা হাতে নিয়েছিলেন। অধিনায়ক  ধোনির দুর্দান্ত ফর্মের সুবাদে ভারতীয় দল দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয় করে।

এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে খেলা শুরু হয়। ফলে ম্যাচের ওভার সংখ্যা ২০’এ নামিয়ে আনা হয়।

টসে হেরে ব্যাট করতে নামে ভারত। ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে ভারত। শিখর ধাওয়ান ৩১, বিরাট কোহলি ৪৩ ও রবীন্দ্র জাদেজা অপরাজিত ৩৩ রান করেন। ১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ১২৪ রান করে। ম্যাচের শেষ বলে প্রয়োজনীয় ৬ রান করতে না পারায় ভারত ৫ রানে জয়ী হয়।

বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বৃষ্টির কারণে ২০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ধোনি যখন ১৮তম ওভারে ইশান্ত শর্মার হাতে বল তুলে দেন। এর আগে ওভার প্রতি বেশি রান খরচ করা এ পেসার যখন বল হাতে নেন তখন ক্রিজে ছিলেন ইয়োইন মরগান ও রবি বোপারা। কিন্তু তিনি দুই উইকেট শিকার করলে ম্যাচ ভারতের দিকে হেলে পড়ে। জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন বাকি কাজটা করে দলকে শিরোপা এনে দেন।

২০১৩ সালের ২৩ জুন ভারত চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফির শিরোপা জিতে নিয়েছিলেন। সেই সাথে জয় হয়েছিল ভারতের ক্যাপ্টেন কুল খ্যাত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির। ভারতের একমাত্র অধিনায়ক হয়ে তিনি সব ধরনের শিরোপা জয় করে হাতে তুলে নিয়েছিলেন।

জেটি

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *