মুক্তিযুদ্ধ

বই পর্যালোচনা : ১ – তাজউদ্দীন আহমেদ

0

রাশেদুজ্জামান রণ :

তাজউদ্দীন
নিঃসঙ্গ এক মুক্তিনায়ক
পেইজ – ১১০
গায়ের মূল্য – ১৪০
প্রকাশক – বাংলা প্রকাশ

ইমতিয়ার শামীম সাহেবের লেখা ছোটখাটো ধরণের বেশ গাট্টাগোট্টা টাইপের বই। যারা অল্প জেনে তর্ক করতে ভালবাসেন, তাদের জন্য এটা অতি মূল্যবান একটা বই।

খাঁটি দুধ ঘন করে জ্বাল দিলে সর পড়ে, তা খেতে বেশ সুস্বাদু। কিন্তু এর পিছনে অনেকের শ্রম আছে। এগুলো অস্বীকার করার জো নেই। এই বইটাতেও তেমনি, তাজউদ্দীন সাহেব সম্পর্কে সব ভাল ভাল তথ্যের পরিবেশন করা হয়েছে। কিন্তু অগ্র-পশ্চাতের অনেক খবরই এখানে প্রকাশিত হয় নি। হয় তো লেখক তা সংকলন করতে চান নি।

‘এভাবেও ভাবা যায়, এভাবেও বই লেখা যায়।’ এটা জানার জন্য হলেও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী পাঠকদের এই বইটা পড়ে দেখা দরকার।

তবে এই বইয়ের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা মনে হয়েছে রেফারেন্স উল্লেখ না করা। রেফারেন্স উল্লেখ না করার ফলে পাঠক তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবেনা। আর যাচাই করার সুযোগ না পেলে সেই তথ্য রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবেনা।

একটা উদাহারন দিলেই জিনিসটা ক্লিয়ার হবে। এই বইয়ে শামীম সাহেব লিখেছেন, ‘তাজউদ্দীন সাহেবকে হত্যা করার জন্য মুজিব বাহিনী লোক পাঠিয়েছে। সেই লোক তাজ সাহবের কাছে ধরা দিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তাকে মুজিব বাহিনী পাঠিয়েছে।’ তিনি কোথায় পেলেন এই তথ্য, তার কোনো রেফারেন্স নাই।

হত্যাকারি পাঠানোর এই গাল-গল্পের তথ্যটা মইদুল সাহেব, তার লেখা “মূলধারা ‘৭১” বইয়ে উল্লেখ করেন। কিন্তু মইদুল সাহেব যাদের সাক্ষী মেনেছেন। মূলধারা ‘৭১ বইয়ে তাদের কোনো সাক্ষাতকার বা স্বীকারোক্তি নেই। ইতিহাস কখনও বেওয়ারিশ-লাওয়ারিশ অমুক-তমুকের নাম উল্লেখের ধার ধারেনা। এমন কি মইদুল সাহেবেরওনা। তার দাবীকৃত ১৯৭১’র মূলধারার ইতিহাস তাই আজো গোলমেলে। তাছাড়া মইদুল সাহেবের এই গাল-গল্প বা তার বইয়ের রেফারেন্স শুধু শোনা যায় তাদেরই কাছে যারা বঙ্গবন্ধুকে ছোট করে অন্যকে বড় করার চেষ্টা করেছে আজীবন।

তাই হয়তো ইমতিয়ার শামীম সাহেব ভেবেছেন, মইদুল সাহেবের বইটা কেন শুধু রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার হবে, আমারটাও হোক। কিন্তু এই যুগটা একটু অন্যরকম। এখানে ক্রস চেকের খেলায় সবাই ব্যস্ত। সুতরাং সাধু সাবধান!

 

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *