পাঠকের লেখাফিচারবাংলাদেশ

২০ জুন : বিশ্বকাপে মুশফিকের প্রথম সেঞ্চুরি

0

সিফাত হাছান সুমাইয়াঃ বিশ্বকাপ- ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর, যে টুর্নামেন্টের দিকে তাকিয়ে থাকে সবাই। প্রতিটি খেলোয়াড় চেষ্টা করেন বিশ্বকাপে নিজের সেরা পারফরমান্স করতে। বিশ্বকাপে প্রত্যেক ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির দেখা পেতে চায়, এত বড় আসরে সেঞ্চুরি করে নিজের দলকে জেতানোর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না।

কিন্তু শতকের দেখা পেয়েও অনেক সময় দলকে জেতানো যায় না। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ২০ জুনের ম্যাচটি ঠিক এমনই ছিল বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের জন্য। সেদিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়া ছুঁড়ে দিয়েছিল পাহাড়সম রানের লক্ষ্য।

আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৩৮১ রান। বাংলাদেশের ইনিংস সেদিন ৩৩৩ রানে থেমে গেলেও ১০২ রানে অপরাজিত থেকে শেষ অব্দি মাঠের লড়াই চালিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। হাঁকিয়েছিলেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম শতক।

বাংলাদেশ হেরে গিয়েও সেদিন এক রেকর্ড গড়ে, তা ছিল ওয়ানডেতে দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড। একই আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩৩০ রান সংগ্রহ করেছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৩৩ রান করে করে বাংলাদেশ। যেখানে মুশফিকের শতক ছাড়াও ছিল তামিম (৬২) এবং রিয়াদের (৬৯) অর্ধশতক।

মুশফিকুর রহিম লড়াকু এক ইনিংস খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, রানের পাহাড় দেখে ভড়কে যাননি। বুক চিতিয়ে লড়াই করে গেছেন। দলীয় ১০২ রানে সাকিব আউট হওয়ার পর মাঠে নেমেছিলেন মুশফিক। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রান আর বাংলাদেশের ৩৩৩- দুই দলের মোট সংগ্রহ ৭১৪ রান, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

২০০৭, ২০১১ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে বেশ কিছু ভালো ইনিংস খেললেও সেঞ্চুরি পাননি মুশফিক। অবশেষে ২০১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক শতকের দেখা পান শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অপরাজিত ১০২ রানের জন্য তিনি খেলেছিলেন ৯৭ বল, ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ৯ চার এবং ১ ছয়ের মারে।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে মুশফিকের প্রথম সেঞ্চুরি হলেও, ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি ছিল তার সপ্তম সেঞ্চুরি। ২০১৯ বিশ্বকাপে সেদিন পর্যন্ত বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা তিনটি সেঞ্চুরি করেন। মুশফিকের আগে সাকিব ২টি সেঞ্চুরি করেন। এ দুজনের আগে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেছিলেন জোড়া সেঞ্চুরি।

৩৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ শুরুতেই দলীয় মাত্র ২৩ রানের মাথায় সৌম্য সরকারকে হারান। তামিম ইকবালের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ফলে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। সৌম্যর ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ১০ রান। ২য় উইকেটে আসেন সেই আসরে দুই শতক করা সাকিব আল হাসান।

দ্বিতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তামিম এবং সাকিব। টানা ষষ্ঠ পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেন সাকিব, সাজঘরে ফেরেন ৪১ রান করে। এরপর ছোট ছোট আরও দুটি জুটি। ততক্ষণে সেই আসরে ব্যক্তিগত প্রথম হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেন তামিম, খেলেন ৬২ রানের ইনিংস। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।

এরপর জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ। যে জুটিতে আশা দানা বাঁধে। অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন চোখের কোণে উঁকি দিতে থাকে। ৪৬তম ওভারে পরপর দুই বলে মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান ফিরে গেলে বাংলাদেশের লক্ষ্য থেকে দূরে থামাটা নিশ্চিত হয়ে যায়। ৫০ বলে ৬৯ রান করা মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে ভাঙে ৯৭ বলে ১২৭ রানের অসাধারণ জুটি। সাব্বির খুলতে পারেননি রানের খাতা।

শেষদিকে মেহেদি হাসান মিরাজ ও মাশরাফি বিন মর্তুজা ফিরে গেলে ৮ উইকেটে ৩৩৩ রানে থামে বাংলাদেশ। ৩৮২ রান তাড়া করে জিততে হলে বাংলাদেশকে ভাঙতে হতো রান তাড়ায় নিজেদের রেকর্ড। ভাঙতে হতো বিশ্বকাপের রান তাড়ার রেকর্ডও। সেই দাবি মেটানো যায়নি। কিন্তু সমর্থকদের দাবি মিটিয়েছিলেন মুশফিক, শেষপর্যন্ত দর্শকদের উজ্জীবিত করে রেখেছিলেন।

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *