ফিচার

‘হু রাইটস ইউর স্ক্রিপ্ট’

0

১৯৮৬’র ইংলিশ সামার। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড সফরে নিউ জিল্যান্ড। এর আগে এক অঘটন ঘটিয়ে বসলেন আশির দশকের ইংল্যান্ড তথা ক্রিকেটবিশ্বের অন্যতম তারকা স্যার ইয়ান বোথাম। আশির দশকে যে ক্রিকেটাররা মাঠ কাঁপিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন।

১৯৮৪ সালে নিউ জিল্যান্ড সফরে গিয়ে ‘মারিজুয়ানা’ চেখে দেখেছিলেন। ৮৬’তে এসে স্বীকার করে বসেন। ভাগ্যে জুটলো দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ক্যারিয়ারের দরজায় সিলগালা করে দেয়া হলো দুই মাসের জন্য। পত্রিকার ফ্রন্টপেজ, টিভি নিউজে ভেসে বেড়ালো নানান কথা, নানান মেয়াদের নিষেধাজ্ঞার খবর। আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন, এমনটাও শোনা যাচ্ছিল। মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের আচার আচরণে বিশেষ ফোকাস ছিল বলে, বেশ বড় একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল বোথামের এই ঘটনা। দুই মাস দলে ছিলেন না বোথাম। সেই দুই মাসে ইংল্যান্ড টেস্ট হেরেছে ভারত আর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরলেন বোথাম, সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে। এর আগের দুই টেস্টের একটায় হার, আরেকটায় ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল মাইক গ্যাটিংয়ের ইংল্যান্ড।

বোথামের প্রত্যাবর্তন হয়েছিল ওভালে, ২১ আগস্ট ১৯৮৬। টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। গ্রাহাম ডিলি, গ্ল্যাডস্টোন স্মল জুটি বাধেন শুরুর স্পেলে। বেশ আরামেই ১৭ রান তুলে কিউইরা। তখন বোথামের হাতে ‘রেড চেরি’ তুলে দেন গ্যাটিং। নিষেধাজ্ঞার খড়গটা মাত্র নেমেছে মাথার ওপর থেকে। মঞ্চটাও যেন প্রস্তুত ছিল তার জন্য। ক্রিকেট সেদিন একটা রেড কার্পেট বিছিয়ে রেখেছিল ওভালের ঘাসের ওপর ‘বিফি’র জন্য।

অপেক্ষা ছিল, কখন আসবেন সিনেমার হিরো অস্কারের মঞ্চে। মঞ্চটা নিজের করে নিতে বোথাম সময় নিলেন মাত্র এক বল। ৬৩ দিন পর মাঠে নেমে প্রথম বলটা করলেন, ওপেনার ব্রুস এডগারের ব্যাট ছুঁয়ে বল জমা পড়লো স্লিপে থাকা গ্রাহাম গুচের হাতে। ফিরে আসা বুঝি একেই বলে! ওভালের গ্যালারি সেদিন কেমন ছিল, একটু ভাবার চেষ্টা করুন, চোখটা বন্ধ করে।

এডগার ছিলেন বোথামের টেস্ট উইকেট নম্বর ৩৫৫। সেই উইকেট নিয়েই ছুঁয়ে ফেলেন ডেনিস লিলিকে। ৩৫৫ উইকেট নিয়ে তখন টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় লিলির সাথে প্রথম স্থানটা শেয়ার করেন। লিলিকে ছাপিয়ে যেতেও বেশি সময় নেননি বোথাম। জেফ ক্রোর প্যাড হিট করে বোথামের ডেলিভারি। আম্পায়ার ছিলেন সেই ম্যাচে ডিকি বার্ড ও ডেভিড শেফার্ড। দুজনের মধ্যে থেকে কেউ একজন আঙ্গুল তুলে দেন আপিলের পর। বোথাম তখন হয়ে যান টেস্টে সরচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক।

ওভাল টেস্টে তিন উইকেট নিয়ে থামেন বোলার বোথাম। ব্যাটিংয়েও চুপ থাকেন কী করে? খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস। প্রত্যাবর্তন বলে কথা।

ব্রুস এডগার ফিরেছিলেন, গ্রাহাম গুচের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ক্যাচটা ধরে সেলিব্রেশনের সময় বোথামকে গুচ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘হু রাইটস ইউর স্ক্রিপ্ট’। উত্তরে বোথাম কী বলেছিলেন তা জানা নেই। কে লিখে তাও জানা নেই। তবে এমন নাটকীয় উত্থান-পতনের চিত্রনাট্য, স্ক্রিপ্টে বোথাম যে হিরো তা নিয়ে দ্বিমত নেই।

কথা উঠবে, গুঞ্জন ছড়াবে। ফার্স্ট লুক, টিজার, ট্রেলারে ছড়াবে আলোচনার উত্তাপ। কিন্তু সিনেমা হলে বোথামরা ঠিকই মাতিয়ে দিবেন। দর্শকরা হল ছাড়বে তৃপ্তির আভা চেহারায় মেখে। এজন্যই বোধহয় প্রচলন ছিল, স্যার ইয়ান বোথামের মতো থিয়েটার, সিনেম্যাটিক সেন্স আর কারো ছিল না।

ছিলেন ক্যারিজমাটিক ক্যারেক্টার, ইংলিশ ক্রিকেট ছিলেন অদ্বিতীয়। তবে কিছু কিছু কন্ট্রোভার্সি যে ছিল না, তা কিন্তু নয়। অবশ্য কন্ট্রোভার্সি না থাকলে ইয়ান বোথামের সিনেমাটা হিট হতো কিনা বলা মুশকিল।
তাই অবাক হয়ে গুচ তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘হু রাইটস ইউর স্ক্রিপ্ট’

আপনার পছন্দ থ্রিলার, মার্ডার, মিস্ট্রি, ক্রাইম জনরা। অন্য কারো পছন্দ ক্লাসিক ঘরানা। কারো মন বসে রোমান্টিক ফিল্মে। কেউ ভালোবাসে হরর সিনেমায় ভয় পেতে। কারো চাই এডভেঞ্চার। কেউবা আবার পুরোদস্তুর মার্ভেল-ডিসির সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ফ্যান। কারো চাই মাসট্যাং, পনিটেইলে চড়া ওয়েস্টার্নের ওয়াইল্ড ওয়েস্ট। কারো মাথাটা ঘুরে যায় নোলানের চমকে, কারো স্করসেজি চাই ই চাই।

কারো কান শুনতে চায় এলভিস প্রিসলিকে। কেউ বুঁদ হয় অঞ্জন বা কবীর সুমনে। কারো আবার জেমস, বাচ্চু ছাড়া চলেই না। কেউ মাতোয়ারা মেটালিকা, গান্স এড রোজেস, পিংক ফ্লয়েডে। কেউ কেবল ক্লাসিক মিউজিকের ইন্সট্রুমেন্টাল শুনতে চায়, কারো আবার জ্যাজটাই ভালো লাগে।

সবার পছন্দটাই ইউনিক যার যার কাছে। সবারই একটা লিস্ট থাকে, প্রিয় সিনেমার। আপনারও আছে। কয়টা সিনেমার লুপে পড়ে আছেন আপনি। ঘুরেফিরে বারবার এক সিনেমার, একই দৃশ্য বারবার দেখতে আপনার ভালো লাগে।

সবারই একটা ফেভারিট প্লে-লিস্ট থাকে গানের। আপনারও আছে। ব্যস্ত হাইওয়েতে বাসের সিটে, কিংবা সমান্তরাল লাইন ধরে ছুটে চলা ট্রেনের জানালায় বসে আপনি শোনেন। অলস দুপুরে, মন খারাপ করা সন্ধ্যায়। রিপিট করে, শাফল করে।

ঠিক তেমন একটা সিনেমা আপনি দেখেছিলেন, ঠিক তেমন একটা গান আপনি শুনেছিলেন বছরখানেক আগে। আপনার মনের মতো।

তাকে প্রায়ই তুলনা করা হয় বোথামের সাথে। মনে রাখুন তাকে। আপনার পছন্দের সিনেমার হিরো হবেন তিনি। হবেন আপনার প্রিয় একটা গানের লিরিক। আপনার পছন্দের থ্রিলারের টুইস্ট হবেন তিনি। মিস্ট্রির ক্লাইম্যাক্সটাও জমিয়ে দিবেন।

নোলানের মাথা ঘুরিয়ে দেয়া প্লটের সমাধান, প্যাঁচালো মোড়টা তিনি। এলভিস প্রিসলির গিটারের টুংটাং, বাচ্চু, জেমসের দরাজ গলায়, জীবন, প্রেম নিয়ে গাওয়া গানটাও শোনাবেন তিনি৷ স্ল্যাশের গিটার সোলোর তালে আপনি মাথা দোলান, সেই দুলুনিতেও আছেন তিনি।

স্কাই স্পোর্টসের প্রেজেন্টার অ্যালেক স্টুয়ার্টকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সে বোথামের চেয়ে বেটার কিনা?’, উত্তরে স্টুয়ার্ট বলেছিলেন, ‘সে নতুন দিনের বোথাম।’

১৯৮৬ তে বোথাম হিরো হয়েছিলেন, ফিরে এসেছিলেন ওভালে। এর ৩৪ বছর পর ওভাল থেকে চার মাইল দূরে ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে হিরো হয়েছিলেন ‘নতুন দিনের বোথাম’

সেদিনের লর্ডস। জমজমাট ক্রিকেটের মক্কা। ফুল হাউজ। শো জমে ক্ষীর। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। ক্রিকেটের বিশ্বায়নের ফলে, অগণিত চোখ টিভির পর্দায়।

২৪২ রানের টার্গেট। এই মারকাটারি ক্রিকেটে, ব্যাটসম্যানদের দাপটের যুগে তা মামুলিই মনে হয়। ‘ফাইনাল ম্যাড়মেড়ে’ ই হয়, ভাবনাটা তখন লর্ডসের গ্যালারি থেকে শুরু করে, আপনার-আমার মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু ভাবনা ধীরেধীরে হারিয়ে যেতে লাগলো। দেখা মিললো নাইন্টিজ ও আর্লি টুয়েন্টিজের ভিন্টেজ ক্রিকেটের। ‘২৫০’ হলেই ম্যাচ জেতা যায়, টাইপ হাওয়া বইছিল।

নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের তোপে তাই মনে হচ্ছিল। ম্যাড়ম্যাড়ে, বোরিং, একপেশে হয়ে যাওয়া থেকে ফাইনালকে বাঁচিয়েছিলেন তারাই। অন্যদিকে তাদের জবাব দিয়ে যাচ্ছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা।

বেয়ারস্টো, রয়রা খেই হারিয়েছেন। পালে হাওয়া পাননি মরগান, রুটরাও। তবে উত্তাল সাগরে সাবলীল সাতরেছেন বাটলার। সাথে আরেকজন। যিনি আপনার গল্পের নায়ক হবেন। আপনার পছন্দের গানের লিরিক হবেন।

যদি আপনার গল্পের, আপনার সিনেমার নায়ক না ই বা হবেন, বোল্ট কেন ডিপ মিড উইকেটে তার ক্যাচটা ধরে বাউন্ডারি রোপে পা দেবেন। যদি আপনার পছন্দের থ্রিলারের, টুইস্টটা না-ই হবেন, তাহলে কেনই বা গাপ্টিলের থ্রো-টা স্টাম্পে না লেগে তার ব্যাটে লেগে, চার হয়ে যাবে।

তার আগের গল্পটা সবারই জানা। ব্রিস্টলের এক বারে সেই রাত। মারামারি, ব্যান হওয়া, বাদ পড়া, স্পন্সর খোয়ানো। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের সূর্য অবেলায় ডুবতে বসেছিল। কিন্তু ডোবেনি শেষ অবধি। ওই যে, আপনার গল্পে, সিনেমায় নায়ক হবেন তিনি। তাই। পছন্দের গানের লুপে বাধা পড়বেন, তাই তার সূর্যের লাল আভাটা হারিয়ে যায়নি।

বোল্টের ফুলটসটা চাইলে উড়িয়ে মারতে পারতেন সেদিন। মারেননি, পুশ করে সিংগেল নিয়ে ম্যাচটা টাই করেছেন। সুপার ওভারে ঠেকিয়েছেন ম্যাচের নিয়তি।

ততক্ষণে আপনার মনে উঁকি দিয়ে গেছে ‘৯৯, বিশ্বকাপের বার্মিংহাম। দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া। আহা ক্লুজনার, আহা ডোনাল্ড। কিংবা ফিরে গেছেন ২০০২ দুইয়ের ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে। লর্ডসের বারান্দায় সৌরভের জার্সি ঘুরানো। আপনাকে হয়তো ছুঁয়ে গেছে, ২০০৬ এর সেই ওয়ান্ডারার্স, আর ওয়ান্ডারার্সের মিরাকল। সর্বকালের সেরা খ্যাতি পাওয়া সেই ভূতূড়ে, রান পাহাড়ের ওয়ানডেটা।

ততক্ষণে সুপার ওভারে ব্যাট করতে এসে গার্ড নিয়েছেন আপনার সিনেমার হিরো। প্লটে আরো টুইস্ট বাকি। বাটলারকে সাথে নিয়ে দলকে এনে দিয়েছেন ১৫ রানের পূজি।

কিউইদের ১৬ রান চাই, বিশ্বকাপ জিততে। আর্চারের দ্বিতীয় বলে ছয় মারলেন নিশাম। ম্যাচের পাল্লা দোদুল্যমান। শেষ বলে দরকার দুই রান। গাপ্টিল স্ট্রাইকে। প্যাড বরবার, অস্বস্তিকর লেন্থে বল। কোনোরকমে ব্যাট চালিয়ে ছুট। দুই রানই চাই, এক রান নিয়ে টাই করলেও জিতবে ইংল্যান্ড।

এক রান, দুইয়ের জন্য ছুটছেন গাপ্টিল। জেসন রয়ের থ্রো। জীবনের সবচেয়ে তড়িৎ গতির রান আউটটা করলেন বাটলার। ইয়ান স্মিথ মাইক্রোফোনে ছড়ালেন, সুক্ষ্ম মার্জিনের ফলাফলের নিয়তি। ব্যবধান অল্প হলেও, গাপ্টিলের ব্যাট আর পপিং ক্রিজের লাইনের ফারাক ছিল তার চেয়ে বেশি। এই দুরত্বটা গাপ্টিলের মন থেকে কোনোদিন মুছবে বলে হয় না।

লর্ডস পাম্পড আপ। ইংলিশ ক্রিকেটাররা, ইংল্যান্ডের মানুষরা তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সুখী। নায়ক তখন আছড়ে পড়েছেন লর্ডসের সবুজ ঘাসে, চোখ বুজে।

বেন স্টোকস। সাথীদের আসা-যাওয়ায় একাই টেনেছেন দলকে। সুযোগ বুঝে হাত খুলেছেন, মেরেছেন। বাটলারকে জায়গা করে দিয়েছেন। দেখিয়েছেন সেন্সিবিলিটি। বাড়িয়েছেন আমাদের হার্টবিট। জিইয়ে রেখেছেন জেতার আশা। যেমন সিনেমাতে হয়। মোড়ে মোড়ে গল্পের চমক। পছন্দের গানের অন্তরা, স্থায়ীতে যেভাবে আপনার হৃদয় পুলকিত হয়।

আইরিশ স্মল টাউন বয়। মরগান। অধিনায়ক মরগান। ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে দাঁড়িয়ে এক হাতে চোখমুখ ঢেকে হাসছিলেন,অবিশ্বাসের হাসি। এভাবেও জেতা যায়! তাও গোটা একটা বিশ্বকাপ।

অন্যদিকে হতাশায় ঢাকা পড়েছে দাঁড়িভর্তি, শান্ত, সৌম্য একটা মুখ। চোখ দুটো বন্ধ। দেখতে তাকে সেইন্টই মনে হয়। কেইন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক। এভাবেও ম্যাচ হারা যায়!

দুই অধিনায়কের দুই ভাবনা৷ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। উপলক্ষ এনে দিয়েছেন সেই হিরো, সেই স্টোকস।

কারো গল্পের নায়ক, কারো গল্পের ধীরে বিল্ডাপ হওয়া একটা চরিত্র, কারো গল্পের খলনায়ক। খলনায়করাও, নায়ক। কোনো থ্রিলারের আচমকা প্লট টুইস্ট তো, নোলানের সিনেমার মাথা ঘুরানো থিওরি ; বুঝে আসে না, উত্তর মিলে না। উইলিয়ামসন, নিউজিল্যান্ড যে উত্তরটা পায়নি; কেন? কীভাবে?

কারো মুড ভালো করে দেয়া একটা গান, কারো দুঃখবোধকে আরো বাড়িয়ে দেয়া একটা বিষাদী ভায়োলিনের সোলো।

বোথামকে কাগজে কলমে ছাড়িয়ে যাবেন কিনা, সেটা সময় বলবে। তবে বোথামের মতো সিংহ হৃদয় ক্রিকেটার যে তিনি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। গুচের যেমন আইডিয়া ছিল না, বোথামের স্ক্রিপ্ট কে লেখে? ঠিক তেমনি আমাদেরও মনে প্রশ্ন জাগে, ‘স্টোকসি, হু রাইটস ইউর স্ক্রিপ্ট?

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *